সিবিএন ডেস্ক:
কক্সবাজার জেলার অন্যতম স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাহিত্যিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও নবীন বরণ অনুষ্ঠান আজ সকাল ১১টায় বিদ্যালয়ের হলরুমে এক আবেগঘন ও প্রাণবন্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।
বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষিকা সুমাইয়া হক বাপ্পীর সঞ্চালনায় এবং স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার সিটি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এম. আকতার উদ্দিন চৌধুরী। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার সিটি কলেজ শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক জাফর আলম ও মৌলানা মো. সাদেক হোসাইন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আবছার।

প্রধান অতিথি প্রফেসর এস.এম. আকতার উদ্দিন চৌধুরী তার বক্তব্যে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “তোমরা আজ এক নতুন অধ্যায়ের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছো। এই বিদায় কোনো শেষ নয়, বরং এটি তোমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। অধ্যবসায়, সততা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তোমরা নিজেদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারবে।” তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এই প্রতিষ্ঠান তোমাদের জন্য শুধু পাঠদান নয়, মানবিক মূল্যবোধ ও চরিত্র গঠনের ক্ষেত্রও। তোমাদের দায়িত্ব হবে এই ঐতিহ্যকে ধারণ করা।”
তিনি সাহিত্যিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে কক্সবাজার সিটি কলেজের মাধ্যমিক শাখা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কক্সবাজার সিটি কলেজে ভর্তি হলে তাদের মাসিক ফি অর্ধেক করে দেওয়া হবে”—যা উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দের সঞ্চার করে।
প্রধান বক্তা জাহাঙ্গীর আলম তার দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে বলেন, “জীবনে সফল হতে হলে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে এবং সেই লক্ষ্য অর্জনে নিরলস পরিশ্রম করতে হবে। সময়ের সঠিক ব্যবহারই একজন শিক্ষার্থীকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।” তিনি আরও বলেন, “ব্যর্থতা কখনো শেষ নয়, বরং তা সফলতার সোপান। তাই ভয় না পেয়ে প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে সাহসের সাথে মোকাবিলা করতে হবে।”

বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “তোমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ যেন তোমাদের পরিবার, প্রতিষ্ঠান ও দেশের গর্ব বয়ে আনে—এই প্রত্যাশাই করি।”
সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল হোসাইন চৌধুরী তার আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, “এই বিদ্যালয় আমার স্বপ্ন, আমার আত্মার অংশ। তোমাদের প্রতিটি সফলতা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।” তিনি বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “তোমরা যেখানে যাবে, এই প্রতিষ্ঠানের নাম উজ্জ্বল করবে—এটাই আমার বিশ্বাস।” নবীনদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও মানবিকতা—এই তিনটি গুণ তোমাদের জীবনের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত।”
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক নুরুল আবছার বলেন, “বিদ্যালয় শুধু জ্ঞানার্জনের স্থান নয়, এটি মানুষ গড়ার কারখানা। আমরা চেষ্টা করি শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য নয়, একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে।” তিনি বিদায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য দোয়া কামনা করেন এবং নবীন শিক্ষার্থীদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানে বিদায়ী ও নবীন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিদায়ের বেদনা আর নতুনদের আগমনের আনন্দ মিলিয়ে এক আবেগময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও স্মরণীয়।
সবশেষে, শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
